
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ১৩নং পু্ইশুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পুইশুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সত্তোরোর্ধ্ব বয়োঃবৃদ্ধ চাচা ও আপন ভাতিজাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এলাকার কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। আহতরা বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের পুইশুর গ্রামের মৃত শওকত মোল্লার ছেলে রিয়াজ মোল্লা (৪৬) এর ওপর গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন (২৮ মে) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫ টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। তিনি পুইশুর গ্রামে মোড়ের একটি চায়ের দোকানে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
আহত রিয়াজ মোল্লা জানান, তাদের এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। কিছুদিন আগে তার পুকুর থেকে ইলেকট্রিক শক লাইটের মাধ্যমে মাছ চুরির সময় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরার পর তিনি কাশিয়ানী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাছ চুরির একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার জেরে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে নানা ধরনের হুমকি- ধমকি দিয়ে আসছিলো।
তার অভিযোগ, ঘটনার দিন লাভলু মোল্লার নেতৃত্বে তার ছেলে গণি মোল্লা, ইয়াসিন সিকদার, ইসরাইল সিকদার সহ আরো ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্র, দা, ছুরি, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এদিকে, ওই দিন স্থানীয় মসজিদ থেকে আছরের নামাজ আদায় শেষে ভাতিজার ওপর হামলার খবর শুনে ভাতিজাকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান সত্তোরোর্ধ্ব চাচা ওমর আলী মোল্লা। বয়োঃবৃদ্ধ চাচার হাতে থাকা লাঠি কেড়ে নিয়ে ওমর আলী মোল্লাকেও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হামলায় তিনিও গুরুতর আহত হন।
পরে স্বজনেরা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, হামলার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী
থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার সহ সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দরা।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।